মহামারি করোনা ভাইসের প্রভাবে সারাদেশের মতো মিরসরাইয়েও অঘোষিত লকডাউন চলছে। মানুষ বাইরে বের না হয়ে ঘরেই অবস্থান করছে। এতে করে জনমানব শুণ্য রাস্তাঘাট হাটবাজার। দোকানপাট বন্ধ থাকায় পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের কোন সুযোগ না থাকায় ক্ষতির মুখে পোল্ট্রি, দুগ্ধ খামারি ও মৎস্য চাষীরা। দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি আলা উদ্দিন জানান, উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ৯শ খামারি রয়েছে। এমনিতে এবছর খামারিদের অবস্থা ভালো না। রোগবালাই লেগেই আছে। মেডিসিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। এখন মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে অচলাবস্থা থাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিয়েসহ অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় খামারিরা মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার খামারি মোশাররফ হোসেন বলেন, এতদিন মুরগীর মূল্য কম ছিল, এখন লকডাউন অবস্থায় মুরগী নিয়ে কোথায় যাবো? খরচ তোলাতো দূরে থাক, কিভাবে শ্রমিকদের বেতন দেবো বুঝতে পারছি না।
মিরসরাই ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশনের সভাপতি হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মরণের অবস্থা হয়েছে। উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ১শ ডেইরী খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন ৪ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বেশির ভাগ খামারি উৎপাদিত দুধ মিষ্টির দোকানে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে অন্যান্য দোকানের ন্যায় মিষ্টির দোকানও বন্ধ। তাই খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারছে না। খুচরা যারা দুধ কিনত তারাও কিনছে না। এতে খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছে। অন্যদিকে খামারের খাদ্য শ্রমিক পরিচালনায় প্রতিদিন টাকা খরচ হচ্ছে। এই দুর্যোগের সময় খাদ্যের দামও বেড়ে গেছে।
এছাড়া দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের অন্যতম ডেইরী শিল্প প্রতিষ্ঠান নাহার ডেইরী ফার্ম। কোম্পানীর ম্যানেজার (প্রশাসন) ফাইম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ফার্মে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন অচলাবস্থার কারণে বিভিন্ন স্থানে দুধ সরবারহ বন্ধ রয়েছে।
করেরহাট অলিনগর হিলস্ডেল মাল্টি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী মাঈন উদ্দিন জানান, নিজস্ব গাড়ি দিয়ে ভোক্তাদের বাড়িতে দুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চাহিদা একেবারে কমে গেছে।
এছাড়া ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের মৎস্য জোন হিসেবে পরিচিত মুহুরী মৎস্য প্রকল্পের প্রায় ৫ শতাধিক মৎস্য চাষী। চট্টগ্রামের মাছের চাহিদার ৭৫ ভাগ মাছ সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। বছরে প্রায় ৫শ কোটি টাকা লেনদেন হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে মাছ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে চাষীদের।
আনোয়ার এগ্রো মৎস্য প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রকল্প থেকে মাছ তোলা বন্ধ রয়েছে। কারণ মাছ তুলে কোথায় নিয়ে যাবো? কার কাছে বিক্রি করবো? অনেক প্রজাতির মাছ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তুলে ফেলতে হয়, তা না হলে রোগবলাই দেখা দেয়।
মিরসরাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শতাধিক ডেইরী ও ৮শ ছোট বড় পোল্ট্রি খামারি। সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে ডেইরী খামারে উৎপাদিত দুধ ও পোল্ট্রি খামারে উৎপাদিত মুরগী সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে ফার্মের মুরগীর মাংসে করোনার সংক্রামক রয়েছে বলে গুজব উঠেছে। ফার্মের মুরগীর মাংসতে করোনা ভাইরাসের কোন সংক্রামক নেই।