ছাগলনাইয়ায় অবৈধ বালু মহালে অভিযান অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ রবিবার উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে ফেনী নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত ২৫হাজার ঘনফুট বালুভর্তি বাল্কহেড ডুবিয়ে দেয় দেয়া হয়। এ সময় বালু উত্তোলনে নিয়োজিত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটকরা হলো ভোলা সদর থানার বাপতা গ্রামের হজু মাঝির ছেলে মনির (২৯), একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে রিয়াজ (২৯) ও চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার জয়পুর পূর্ব জোয়ার গ্রামের শাহ আলমের পুত্র সিফাত (২০)। পুলিশ,
আনসারের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন ছাগলনাইয়া এসিল্যান্ড শিবু দাশ। এর আগে গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ৩০টি বালু কাটার বোট অকেজো করা হয় এবং ২হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
৫আগস্ট শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত ছাগলনাইয়ার প্রতিটি বালু মহালের নিয়ন্ত্রণে ছিল আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ফেনী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায় বহু বসতঘর, ফসলি জমি, শ্মশ্মান, উপাসনালয় ও গাছ ও ফলের বাগান। প্রতিবাদ করে উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়েছে ঐ এলাকার মানুষ। তবে সরকার পতনেও ভাগ্য বদলেনি ঐ এলাকার মানুষের। ফসলি জমি, গাছপালা হারিয়ে উল্টো বেড়েছে শেষ সম্বলটুকু হারানোর শংকা।
ঐ গ্রামের রহিমা আক্তার বলেন, আগে কাটতো আওয়ামী লীগের লোকজন এখন বিএনপির লোকজন বালু কাটার মেশিনের সংখ্যা দ্বিগুন করে দিনে রাতে বালু কাটছে। ফলে তীব্র হয়েছে নদীভাঙ্গন। একই অভিযোগ মীর হোসেন, সাহাব উদ্দিনসহ কয়েকশ গ্রামবাসীর। তারা বলেন অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের লোকজন যাওয়ার পরই শুরু হয় বালু কাটা। প্রতিবাদ করলে চলে মারধর। হতভাগ্য গ্রামবাসী অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর কঠিন হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া সহকারী কমিশন ভূমি ( এসিল্যান্ড) শিবু দাশ বলেন, খবর পেলেই অভিযান চালাচ্ছেন তারা। তবে অবৈধ উত্তোলনের সাথে জড়িতরা অভিযানের তথ্য আগে পেয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা কঠিন হয়ে যায়। ঐ এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় রাতে-দিনে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।